কয়েক সেকেন্ড আগে আমি পরিকল্পনা করছিলাম ফুলদানি

কয়েক সেকেন্ড আগে আমি পরিকল্পনা করছিলাম ফুলদানি

কয়েক সেকেন্ড আগে আমি পরিকল্পনা করছিলাম ফুলদানি, ঘরের দরজা খুলতেই তুর্য ভেজা শরীরে

বাইরে বেরিয়ে এলেন। টাওয়াল হাতে নিয়ে লম্বা চুলগুলো মুছছেন উনি। তাঁর পরনে একটা গ্রে কালারের ট্রাউজার।

খালি বুকে বিন্দু বিন্দু পানি জমে আছে, হয়তো এই মাত্র শাওয়ার নিয়ে বেরুলেন। কয়েক সেকেন্ড আগে

আমি পরিকল্পনা করছিলাম ফুলদানি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করবো কিন্তু এখন লজ্জায় তার দিকে তাকাতে পারছিনা।

নিজের অজান্তেই একরাশ লজ্জা এসে চোখে জড়ো হয়েছে আমার। তুর্য আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।

আরও ভালবাসার গল্প পেতে ভিজিট করুউঃ logicalnewz.com

কয়েক সেকেন্ড আগে আমি পরিকল্পনা করছিলাম ফুলদানি

হয়তো বোঝার চেষ্টা করছেন আমি এমন অস্বাভাবিক ব্যবহার কেন করছি। উনার এই তীর্যক দৃষ্টি আমাকে

আরো বেশি লজ্জিত করে তুলছে। এই লোকটা আমায় এত ঘৃণা করে তবুও আমি বেহায়ার মত তাকেই ভালোবেসে যাই।

কেনো যেনো আমার সব রাগ সব ঘৃণা তার ওপর এসে শেষ হয়ে যায়। উনার সামনে আমার সর্বোচ্চ সম্পদ,

আমার আত্মসম্মানও তুচ্ছ। নিজের কাছেই নিজেকে অনেক ছোট মনে হয় যখন নিজের আত্মসম্মানকে

উনার সামনে বার বার বলি দিতে হয়। কিন্তু আমি কি করবো আমিতো তাকে ভালোবাসি আর ভালোবাসা সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

আমাকে আমার ভাবনার জগত থেকে টান দিয়ে বের করে গলাখাকারি দিয়ে উঠলেন তুর্য। কি হলো?

ফুলদানি হাতে ওমন সং এর মত দাঁড়িয়ে আছিস কেন? এতক্ষণে আমার হুশ হলো যে আমি ফুলদানি

হাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম কোই না তো এমনিতেই ফুলদানিতে

ধুলো জমে গেছিলো তাই পরিষ্কার করছিলাম। ফুলদানিটা নিচে রাখতে রাখতে বললাম আর কোনো কথা না বাড়িয়ে,

ভিতরে ঢুকে গেলাম। ঘরের ভিতর বিভীষিকাময় অন্ধকার। ভাগ্যিস ব্যালকোনির পর্দা খানিকটা ফাঁকা

করা ছিল, যেখান দিয়ে খুবই অল্প সূর্যের আলো তীর্যকভাবে ঘরের ভিতর প্রবেশ করছে। নয়তো এই অন্ধকারে

কয়েক সেকেন্ড আগে আমি পরিকল্পনা করছিলাম ফুলদানি

হোঁচট খেয়ে পরে আমার সবগুলো দাঁত ভেঙে যেতো। পরে ভাঙা দাঁত নিয়ে তুর্য কখনই আমাকে বিয়ে করতেন না।

সাবধানতা অবলম্বন করে এগিয়ে গিয়ে খাবার ট্রে টা সেন্টার টেবিলে রেখে পিছিয়ে আসার সময় কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পরে যেতে নিলেই কেউ একজন আমার কোমড় জরিয়ে ধরলেন।

সামনে থাকা মানুষটা তুর্য ছাড়া আর কেউ হতে পারে না। উনার শরীরের ঘ্রাণ আমার খুব পরিচিত। প্রতিবার এই ঘ্রাণ আমাকে মাতাল করে তোলে। জানিনা কি আছে উনার মধ্যে? কেনো আমি উনাকে ভালোবাসি? কোনো কারন নেই উনাকে ভালোবাসার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *