মনে হলোনা যে আমি একা একা কিভাবে চলি

মনে হলোনা যে আমি একা একা কিভাবে চলি

মনে হলোনা যে আমি একা একা কিভাবে চলি, অনেকে হয়তোবা ঐ সময়ে আত্মহত্যা করেও ফেলতো

কিন্তু আমি করিনি। আমার যে সেই হারানো ভালোবাসা পেতেই হবে। এ পৃথিবীতে যদি নাও পাই।

পরের জগতে হয়তোবা পাবো। আর যদি আত্মহত্যা করি তবে তো আর কোনো জগতেই আমি সেই ভালোবাসা পাবোনা।

সেই চিন্তায়ই বেঁচে ছিলাম। প্রতিদিন ভাবতে থাকি ওনাকে একটু ফোন দেই অন্তত। কিন্তু সাহসে কুলোয় না।

আমি পারিনা ফোন দিতে। এভাবে প্রায় ১০ দিন কেটে যায়। মনে হয় আরো বেশিও হতে পারে। একদিন রাতে

খেতে বসেছি তখন একটা মেসেজ আসে। আমি খাওয়া শেষ করে আর সেটা দেখতে মনে ছিলো না।

আরও ভালবাসার গল্প পেতে ভিজিট করুউঃ logicalnewz.com

মনে হলোনা যে আমি একা একা কিভাবে চলি

পরে রাতে ঘুমানোর আগে ফোন হাতে নিলে মেসেজ টা দেখি। মেসেজ টা আমার স্বামীর নাম্বার থেকে এসেছে।

আমি তাড়াতাড়ি সেটা পড়তে উঠে বসি। অনেক বড় একটা মেসেজ, কি রেখে কি পড়বো আমি বুঝতে পারিনা।

অবশেষে শুরু থেকে খুব মন দিয়ে পড়তে শুরু করি। উনি লিখেছেন, কেমন আছো? আশাকরি খুব

ভালো আছো।আমি কেমন আছি তা না বল্লেও চলবে৷ আজ আম্মুর মৃত্যুর ৪০ দিন হলো৷ যদিও এই দিন হিসেবে

বিশেষ কোন কিছু নেই৷ তবুও আমি এই দিনটা একটা বিশেষ দিন ধরে নিয়েছিলাম। ইসলামী শরিয়তে ৪০

খুব প্রশংশনীয়, তাই আরকি৷ আমি ঠিক করে রেখেছিলাম আম্মুর মৃত্যুর ৪০ দিন পর্যত্ন তোমাকে সময় দিবো।

কিন্তু তুমি এইদিন গুলোর মাঝে একটা বারের জন্যও যোগাযোগ করোনি। কি দোষ করেছিলাম।

না হয় রাগের মাথায় একটা থাপ্পড়ই দিয়েছিলাম৷ কই এতোদিন তো কিছু বলিনি৷ তোমার এতো অনিয়মের

পরেও কিছু বলিনি  কিন্তু যেদিন শুনি যে আমার

আম্মু সব জেনে গেছে। ঐদিন থেকে আমার রাগ চলে আসে৷ তবুও তোমাকে এই কয়দিনের সময় দিয়েছিলাম।

খুব ভালোবাসতাম তোমাকে। খুব খুব। তাই সহজেই ভুলতে পারিনি৷ তুমি নিজে যদি ডিভোর্স টা দিতে,

তবে তোমার বাড়িতে অনেক সমস্যা হতো, তাই বাধ্য হয়ে আমিই ডিভোর্স দেই। আজ প্রায় ২২ দিন হয়ে গেছে

তুমি চলে গেছো। একটা বারের জন্য কে রান্না করে দেয়৷ কিভাবে সময় মতো অফিসে যাই৷ আমি কি ঠিক

মতো অফিসে যেতে পারি, ঠিক সময় মতো খেতে পারি, সময় মতো ঘুম থেকে উঠতে পারি! একটা বারের জন্যও

মনে হলোনা যে আমি একা একা কিভাবে চলি

জানতে মন চাইলোনা? আমি বেঁচে আছি না মরে গেছি তারও খোঁজ নাও নি। ঐদিন আমার অফিসে এসে সবার সামনে তোমার বাবা আমাকে প্রায় ৩০ মিনিট নানান কথা বলেছে৷ কতোটা অপমান করেছে সবার সামনে৷

একটা বারও আমি উনার দিকে মুখ তুলে তাকাতে পারিনি৷ একবার ও বলিনি যে আমি কিছুই করিনি আপনার মেয়ের জন্যই এই সব হয়েছে। বললে হয়তো তুমি অনেক কথা শুনতে। লোকে তোমাকে খারাপ ভাবতো, তুমি অনেক বকা খেতে।

তাই ঐদিন তোমার নামে কোন অভিযোগ করতে পারিনি। কেনো জানো? বড্ড ভালোবাসতাম যে তোমাকে। অফিসের কলিগ রা আমায় বাজে ছেলে বেছে ঐদিন। কিন্তু আমি একবার তাদের ভুল শুধরে দেইনি। কারণ একটাই বড্ড ভালোবাসতাম তোমাকে। কিন্তু তুমি একটু ও ভালোবাসোনি আমাকে৷ একটু ও না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *