তারপর উনি হনহন করে চলে যায় আমি কখনো

তারপর উনি হনহন করে চলে যায় আমি কখনো

তারপর উনি হনহন করে চলে যায় আমি, কখনো এতো কষ্ট পাইনি ওনার কথায় যতোটা কষ্ট পাই।

আসলেই তো এই বাড়িতে আমার হাজারটা দ্বায়িত্ব আর আমি কিনা ওনার একটা আবদার পূরণ করতে

পারলাম না! আর কি যেনো বলেছিলো ১০ টা বছরের জমানো ভালোবাসা। মানে কি আসলে যেদিন থেকে

যৌবনে প্রদার্পন করেন তখন থেকেই, যে ব্যক্তি অনাগত স্ত্রীকে ভালোবাসাতে পারেন,আমি কিনা তাকে একটি

বারের জন্য ও ভালোবাসতে পারিনি তার একটা আবদার ও পূরন করতে পারিনি। ধপাস করে ফ্লোরে বসে পড়ি,

আরও ভালবাসার গল্প পেতে ভিজিট করুউঃ logicalnewz.com

তারপর উনি হনহন করে চলে যায় আমি কখনো

সেই প্রথম আমি মন ভরে কান্না করি। হটাৎ করে মাইক্রোবাস এর দরজা টানার আওয়াজে আমার হুস ফিরে।

তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বের হই। দেখি উঠানে একটা মাইক্রোবাস দাড়িয়ে আছে। আর উনি আম্মা(শাশুড়ী মা)

কে কোলে নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। কি হয়েছে দেখার জন্য দৌড়ে যাই। দেখি আমার শাশুড়ীর জ্ঞান নেই।

বুঝতে বাকি রইলনা যে উনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমি উনাকে কেবল বললাম “আমিও যাব” কথাটা বলেই

দৌড়ে রুমে চলে আসি। তাড়াতাড়ি বোরকাটা পরে রুম থেকে বের হই। আম্মাকে গাড়ির পিছনের বড়

সিট টাতে লম্বা করে শোয়ানো হয়েছে আর মাথাটা আমার স্বামীর উরুর(রানের) উপরে রাখা। আমি ও

গাড়িতে উঠে পরি। গিয়ে ওনার পাশে বসে বলি “আপনি সামনে চলে যান আম্মার মাথাটা আমার কোলে

দিন উনি কোনো কিছু না বলে আমার দিকে রক্তিম চোখে তাকান। উনার চাওয়াতে নিষেধ স্পষ্ট।

বাধ্য হয়ে আমি পিছনের সিটে গিয়ে বসে পরি

আম্মাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকানো হয়। আর উনি পুরো বারান্দা জুড়ে পায়চারি করছেন।

আমি বসে থাকতে পারছিনা কেননা উনি হাটতেছেন, এই অবস্থায় যদি আমি বসে বসে আরাম করি তবে উনি

হয়ত আবারও কষ্ট পাবেন। আমি এগিয়ে গিয়ে উনাকে বসতে বলি। এতে উনি বড় বড় চোখ করে আমার

দিকে তাকান আমি ভয়ে আর কিছুই বলিনি। দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে থাকি। উনি কিছুক্ষন পরে লোহার লম্বা

চেয়ারটাতে গিয়ে বসেন।আমিও ওনার পাশে গিয়ে বসি। হাতটা এগিয়ে ওনার কাঁধে রাখতে মন চাইছে কিন্তু ভয়ে

এগোতে পারছিলাম না। মন চাইছিলো ওনার বুকে মাথা রেখে কতক্ষণ কান্না করি, হয়তো উনি এতে কিছুটা ভরসা

পাবেন, আর আমারও একটু ভালো লাগবে। কিন্তু অতটা সাহস আমার তখন নেই। তবুও কাচুমাচু করে

তারপর উনি হনহন করে চলে যায় আমি কখনো

ওনার পাশের চেয়ারটাতে গিয়ে বসি। মনে মনে ভাবতে থাকি আমার এহেন কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া অনেক জরুরি। কিন্তু হাসপাতালে তো আর পায়ে ধরে মাফ চাওয়া যায় না। আর স্বামীর কাছে স্ত্রী ক্ষমা চাইতে হলে পায়েও ধরতে হয়না।

আলতো করে হাতটা ধরে দু’ফোটা চোখের জল ফেলা’ই যথেষ্ট। অথবা ছোট্ট বিড়াল ছানার মতো করে স্বামীর বুকে মুখ লুকিয়ে নিলেই হয়। হয়তো প্রথমে স্বামী, স্ত্রীর দিকে একটু গরম নজরে তাকাবে।

তবে তখন স্বামীর চোখের দিকে অসহায়ের মতো তাকালেই হয়ে যায়। একটা লম্বা সময় নিয়ে কোনো মেয়ে যদি তার প্রিয় মানুষটার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে,, তবে সেই ছেলেটা যত রাগি হোক না কেনো সে অবশ্যই গলে যাবে। অতঃপর শক্ত করে জড়িয়ে বুকের সাথে মিলিয়ে গেলেই সব শেষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *