আমি কোনো কথা বলিনি তাই উনিও আর কিছু

আমি কোনো কথা বলিনি তাই উনিও আর কিছু

আমি কোনো কথা বলিনি তাই উনিও আর কিছু, বলল না ওভাবেই বসে রইলো। আমি ওনার দিকে আরেকটু

এগিয়ে গেলাম ওনার হাতটা জড়িয়ে ধরে মাথাটা ওনার কাঁধে রাখলাম। আর উনি সাথে সাথেই উঠে অন্য দিকে চলে গেলো।

আমি আবার ও পাশে গিয়ে দাড়িয়ে রইলাম।আমার মন চাইছিলো একবার ওনার বুকে মাথা রেখে চোখের

জলে ওনার বুকটা ভিজিয়ে দিতে, এতে যদি উনি আমাকে ক্ষমা করেন। সেই ভাবনা থেকেই উনাকে জড়িয়ে ধরলাম।

উনি আমাকে হালকা ধাক্কা দিলেন। আমি আরো জোরে জড়িয়ে ধরলাম, উনিও জোরে ধাক্কা মেরে আমাকে সরিয়ে দিলেন।

আরও নতুন নিউস পেতে আমাদের সাইটঃ logicalnewz.com

আমি কোনো কথা বলিনি তাই উনিও আর কিছু

আমি আবারও এগিয়ে গিয়ে উনাকে জরিয়ে ধরি। উনি এবার আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে হাত উঁচিয়ে

আমাকে থাপ্পড় দিতে নেয়। আবার হাতটা গুটিয়ে নিয়ে সরি বলে চলে যায়।

সিঁড়ি ঘরের কাছে গিয়ে দেয়ালে দ্রিম করে একটা ঘুসি মারে।

আমি বুঝতে পারি উনি আমাকে থাপ্পড় দিয়ে যেই রাগটা কমাতে চেয়েছিলেন সেটা দেয়ালে ঘুসি দিয়ে

কমানোর চেষ্টা করেছেন। আমি চাঁদের আলোতে খোলা ছাদে বসে কাঁদতে থাকি একটু পরে আবার

ভয় লাগতে শুরু করে যে এতো রাতে ছাদে একা। তাই ঘরে চলে যাই। এতোক্ষণে উনি আবার ঘুমিয়ে পরেছেন।

সোফায় শুয়ে আছেন একেবারে জড়োসড়ো হয়ে। হয়তো শীত লাগছে। ঘরে একটাই কাঁথা, আর সেটা

আমিই দখল করে রেখেছি। তাই তিনি কাঁথা ছাড়াই ঘুমাচ্ছেন। আমি কাঁথা এনে ওনার উপরে দিতেই

ঘুমের ঘোরে তা টেনে গায়ে জড়িয়ে নেন খুব

নিষ্পাপ লাগছিলো ওনাকে। সারাটা দিনে কেমন জানি মায়া জমে গেছে ওনার প্রতি। সারাদিন কান্নাকাটির ফলে

চোখটা ফোলে লাল হয়ে আছে। দেয়ালে ঘুসি দেয়ার ফলে হাতটা কতোটুকু ছিলে গেছে।

আমার রুমে ফাস্ট এইট বক্স ছিলো। আমি সেখান থেকে একটু ভায়োডিন নিয়ে তুলা দিয়ে হাতে ঘসতেই উনি নড়ে উঠেন কিন্তু সারাদিন অনেক পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়ে আছেন তাই পুরোপুরি উঠলেন না।

কাজ শেষে আমি ওনার কপালে একটা চুমু দিয়ে গিয়ে শুয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে উঠে রান্নাঘরে যাই। রান্না প্রায় শেষ তখন শাশুড়ী আম্মা রান্না ঘরে আসেন।

আমি কোনো কথা বলিনি তাই উনিও আর কিছু

রান্না কতোটুকু হয়েছে দেখে আমাকে রান্না শেষ হলে ওনার ঘরে যাওয়ার কথা বলে চলে যান।
রান্না শেষ করে শাশুড়ীর রুমে যাই উনি আমার হাত ধরে নিজের পাশে বিছানায় বসান। আর একনাগাড়ে বলতে শুরু করেন “অবন্তী মা’রে আমি কি আর বাঁচব না রে! আমার তো মনে হয় আর বেশীদিন বাঁচব না।জানিসরে মা ছেলেটা সেই ছোট বেলাতে বাবাকে হারায়। জানিস সেই অল্প বয়সেই কষ্ট করে কাজ করে, আবার পড়ালেখাও করে।আমাকে লোকে কতো জোর করে বিয়ে দেয়ার জন্য আমি না করে দিই।ছেলেটাকে নিয়েই বেঁচে থাকি। ছেলেটা আমার আদরের চেয়ে কষ্টই বেশী পাইছে,বাপ মরার পরে এলাকার লোকের আদর ও পায় না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *