Home / রাজনীতি / ‘খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই’

‘খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস, চিকিৎসা দেশে নেই’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস শনাক্ত হয়েছে। দেশে যা চিকিৎসা সম্ভব তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হয়েছে, এখন যে চিকিৎসা প্রয়োজন তা ইউরোপ ও আমেরিকায় সম্ভব। আশে-পাশের দেশেও সম্ভব না। রোববার (২৮ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সবশেষ শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ এফ এম সিদ্দিকী এসব জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল। তবে যেকোনও সময় খারাপ হতে পারে। তার শারীরিক ঝুঁকি সর্বোচ্চ। যেকোন সময় বিপদ হতে পারে। ডা. এ এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১২ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা করে দেখা যায় হিমোগ্লোবিন ড্রপ করেছে। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার লিভারের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ভর্তি করানো হয়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়া রক্ত বমি করেন। প্রেসারের সমস্যা দেখা দেয়।

খাদ্যনালি দিয়ে ব্লিডিং হতে থাকে। আমরা দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করি। ব্লিডিং বন্ধ করতে সক্ষম হই। এ সময় রক্ত দিতে না পারলে হার্ট ফেল করতে পারত। কারণ তিনি ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগী। তবে গত ১৭ নভেম্বর আবার খাদ্যনালি দিয়ে ব্লিডিং হয়। আবারও হিমোগ্লোবিন নেমে আসে। এর আগে ১২ নভেম্বর উনার হিমোগ্লোবিন ৫ দশমিক ৫ এ নেমে আসে। ২১ নভেম্বর ব্লিডিং বন্ধ হয়। অন্তত ভয়ের কথা হলো ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়ার আবারও ব্লিডিং শুরু হয়। প্রেসার বেড়ে যায়, টয়লেট দিয়ে ব্লাড যায়।

রক্তের কালার চেঞ্জ হয়ে যায়। কালো ও ফ্রেশ ব্লাড আসা শুরু করে। ২৪ নভেম্বর রাতে খালেদা জিয়াকে জেনারেল বেডে স্থানান্তর করা হয়। আবার ব্লাড দেওয়া হয়, এন্ডোসকপি-কোলনোস্কপি করা হয়। এবার ব্লাড নিচের দিক থেকে আসে। উনার পুরো কোলন রক্ত জমে কালো হয়ে আছে। এখন ম্যাডাম খুবই ক্রিটিকাল পরিস্থিতিতে আছে। এখন সুনির্দিষ্ট কিছু করতে হবে।

এই চিকিৎসক বলেন, এখন তার চিকিৎসার একটা উপায় আছে। যদি আপনি রোগীর জীবন বাঁচাতে চান, তাহলে তার জন্য প্রয়োজন টিপস (TIPS) অর্থাৎ যে প্রেসারে ভ্যাসেলটা ছিঁড়ে ফেলে তার জন্য বাইপাস একটা চ্যানেল করে দেওয়া। লিভারের ভেতরে টোটাল প্রেসার কমানোর জন্য সিস্টেমিক সার্কুলেশন এবং পোর্টাল সার্কুলেশনের মধ্যে একটা কমিউনকেশন করে দেওয়া।এই টেকনোলজিটা বাংলাদেশে নেই, এই স্ট্যান্ট পরানো সুক্ষ একটা হাতের কাজ। এই সাব-কন্টিনেন্টালেও নেই। সিঙ্গাপুর ব্যাংককেও নেই। হাতে গোনা একটা দুইটা সেন্টার করে।

তিনি বলেন, আমাদের বডিতে দুটি সার্কুলেশন সিস্টেম আছে। একটা হলো পোর্টাল সার্কুলেশন সিস্টেম, আরেকটা সিস্টেমিক সার্কুলেশন সিস্টেম। লিভারে দুটা সিস্টেমই কার্যকর। লিভারে টোটাল যে ব্লাডটা যায়, তার তিন ভাগের এক ভাগ যায় সিস্টেমিক সার্কুলেশন থেকে। আর তিন ভাগের দুই ভাগ যায় পোর্টাল সার্কুলেশন থেকে। এখানে যেটা হয়, তার পোর্টাল প্রেসার বেড়ে গেছে। কারণ তার লিভারের ভেতরের নরমাল চ্যানেলগুরো লিভার সিরোটিক প্রোসেসে ডিস্ট্রয় হয়েছে।

যে কারণে পোর্টাল প্রেসার বেড়ে যায়, সেজন্য যেসব ভেন থাকে খাদ্যনালিতে, সেগুলো ফুসে ওঠে এবং ফেটে যায়। সেজন্য সিভিআর ব্লিডিং হয়। এই সিচুয়েশনে আমরা যেটা করেছি সেটা ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস। এটার পরে আবার ব্লিডিং হলে আরও কিছু জিনিস আছে, যেগুলো আমরা করি স্পেশাল কিছু কেমিক্যাল এজেন্ট আছে, সেগুলো ইনজেক্ট করি অনেক সময়। আনফরচুনেটলি সেটা আমাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি এবং এখন আমাদের দেশে সেই ওষুধগুলো পাওয়া যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ মুক্ত

খালেদা জিয়ার বাসাকে ‘সাব জেল’ বানানোর দাবি অস্বীকার করে আইন ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক ...