ডাক্তার ওনার কাঁধে হাত রেখে বলেন সরি স্যার আপনার

ডাক্তার ওনার কাঁধে হাত রেখে বলেন সরি স্যার আপনার

ডাক্তার ওনার কাঁধে হাত রেখে বলেন সরি স্যার আপনার, মায়ের লিভার ক্যানসার হয়ে গেছে, হয়তোবা আর বেশী

হলে ৪০ দিন বাঁচবে। পরীক্ষা করলে পুরো শিউর হওয়া যাবে। কথাটা শুনতেই আমার শরীরের লোম গুলো দাড়িয়ে যায়।

আর উনি যেনো কাঁদতে ভুলে গেলেন। রোবটের মতো মেপে মেপে কয় কদম এগিয়ে এসে আবার চেয়ারটাতে বসেন।

হাত দু’টোর কনুই হাঁটুতে ভর দেয়া।

আরও নতুন নিউস পেতে আমাদের সাইটঃ logicalnewz.com

ডাক্তার ওনার কাঁধে হাত রেখে বলেন সরি স্যার আপনার

দশটা আঙুল দিয়ে পুরো মুখ টা আড়াল করে নিরবে কাঁদতে লাগলেন। আমি এবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না।

গিয়ে ওনার পাশে বসলাম। ওনার কাঁধে হাত দিয়ে বলতে লাগলাম।সরি আই এম ভেরী সরি,প্লিজ প্লিজ।

কথা গুলো বলে কাঁদতে কাঁদতে ওনার বাহু জড়িয়ে কাঁধে মাথা রাখলাম।

উনি বলতে লাগলেন “কেনো এমন হয় আমার সাথে, সব সময়ই কেনো এমন হবে,

এ জীবনে কি কখনো সুখ পাবোনা আমি। কেনো এমন হয় বার বার? কেনো”,বলতে বলতে উনি

কান্নায় ভেঙে পরেন। আমি ওনার মাথাটা আমার কাঁধে রেখে মাথায় হাত বুলাতে থাকি। আর সান্ত্বনা দিয়ে বলতে থাকি,

‘আম্মার কিছু হবে না।একদম চিন্তা করবেন না। হঠাৎ ই উনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে উঠে পরেন।

আমিও এগিয়ে যাই ওনার সাথে সাথে মায়ের জ্ঞান

অনেক আগেই ফিরেছে। কিন্তু খুব শিগগিরই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবে হয়তো। তখন রাত প্রায় ১০ টা।

আম্মাকে নিয়ে বাসায় আসতে আসতে প্রায় এগারোটা বাজে। উনি নিজ হাতে আম্মাকে খাইয়ে দিয়ে ঘুম পারিয়ে আমার রুমে চলে আসে।

রাত প্রায় ১ টার দিকে আমার একবার ঘুম ভেঙে যায়। দেখি উনি সোফায় নেই। ঘরের দরজা খোলা।

ডাক্তার ওনার কাঁধে হাত রেখে বলেন সরি স্যার

আমি উঠে গিয়ে ওনাকে খুঁজতে থাকি। অবশেষে ছাঁদে গিয়ে ওনাকে পাই। দেখি দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে অঝোরে কাঁদতেছেন। আমি খুঁজে পাইনা উনি এতো কাঁদেন কি করে। একটা ছেলে যে এতো কাঁদতে পারে, উনাকে না দেখলে বুঝতাম ই না। হয়তোবা ছেলে বেলাতেই বাবাকে হারিয়েছে। সারাজীবন সংগ্রাম করে আসছেন একা একা। জীবনের পথচলাতে মা একমাত্র সঙ্গী ছিলো, আর তিনিও ছেড়ে চলে যাবেন এই ভাবনায় এতো কান্না। আমি ওনার পাশে গিয়ে বসতেই উনি কান্না থামিয়ে চোখ মুছতে ব্যস্ত হয়ে পরলো। তারপর বলতে লাগল “এতো রাতে ছাদে এসেছেন কেনো?,যান ঘরে গিয়ে ঘুমান”।
আমি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *